খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বরঃ লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে না দেখায় চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মধ্যে। সেই হতাশা মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষোভে পরিণত হয় এবং শুরু হয় ব্যাপক ভাঙচুর। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তছনছ হয়ে যায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই স্টেডিয়াম।
সূত্রের খবর, ভাঙচুরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে যুবভারতীর লোয়ার টিয়ারে। অসংখ্য বাকেট চেয়ার ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি লেভেল টু ও লেভেল থ্রি গ্যালারির রেলিংও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খেলোয়াড়দের মাঠে নামার টানেল ভাঙচুরের পাশাপাশি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে গোলপোস্টের নেট। এমনকি গোলপোস্টের একটি অংশ উপড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। মাঠের টার্ফেও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ভাঙচুরে ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি থেকে ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আগে ঢেলে সাজানো হয়েছিল সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়াম। তখন নতুন করে বসানো হয় বাকেট চেয়ার। শনিবার সেই চেয়ারগুলিই ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।
এই বিপুল ক্ষতির পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে স্টেডিয়াম মেরামতির খরচ কে দেবে ? রাজ্য সরকার নাকি উদ্যোক্তা সংস্থা? এই আবহে সোশাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
তিনি দাবি করেছেন, যুবভারতী মেরামতির টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া উচিত নয়। যারা মাঠের ভেতরে মেসির সঙ্গে ছবি তুলছিল বা অনধিকার প্রবেশ করেছিল, তাদের ফুটেজ দেখে তালিকা তৈরি করা হোক। তাঁর মতে, মূল আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের থেকেই ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করা উচিত এবং কোনও প্রভাবশালী যেন ছাড় না পায়।
এদিকে জানুয়ারি মাসে যুবভারতীতেই আইএসএল-এর একাধিক ম্যাচ হওয়ার কথা। এত বড় ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা। ফলে নির্ধারিত সময়ে আইএসএল ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।





