কলকাতা, ২৭ জুলাইঃ বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের ছাপ এবার স্পষ্ট হল রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতরেও। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সাদার পরিবর্তে এবার গেরুয়া রঙে সেজে উঠল নবান্নের প্রধান নামফলক। সোমবার সকালেই প্রশাসনিক ভবনের মাথায় থাকা ‘নবান্ন’ লেখা ফলকের নতুন রূপ চোখে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের প্রায় দু’মাস পর এই পরিবর্তন কার্যকর হল। যদিও গোটা ভবনের রং বদলানো হয়নি, তবে প্রশাসনিক ভবনের সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ প্রধান নামফলকটি আর নীল নয়। তার জায়গায় এখন উজ্জ্বল গেরুয়া রঙে লেখা ‘নবান্ন’ নজর কেড়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নীল-সাদা রঙে পরিচিত এই ফলকের বদলকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি শুধুই রং পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং প্রশাসনিক পরিসরে নতুন সরকারের উপস্থিতি ও নতুন রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। রাজ্যে পালাবদলের পর নবান্নকে গেরুয়া আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় স্থায়ী পরিবর্তনের ছাপ পড়ল ভবনের পরিচিত ফলকেও।
এর আগেই রাজ্য সরকার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির ইউনিফর্মের রং বদলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া নীল-সাদা পোশাকের পরিবর্তে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বহু স্কুলকে তাদের পুরনো ঐতিহ্যগত ইউনিফর্মে ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক কম হয়নি।
এবার স্কুলের পোশাকের পর নবান্নের নামফলকের রং পরিবর্তন সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। শাসকপক্ষের মতে, প্রশাসনের নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়ারই অংশ এই পরিবর্তন। তবে বিরোধীদের একাংশের দাবি, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের বদলে প্রতীকী পরিবর্তনেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নবান্নের মাথার রং বদল যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।





