খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১২ জানুয়ারিঃ বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুতর গাফিলতি ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পাঠানো এই চিঠি নিয়ে মোট পাঁচবার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানালেন তিনি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি দাবি করেছেন, চলতি সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বহু যোগ্য ভোটারের নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয়। শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার কোনও স্বীকৃতি বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী যাচাইয়ের সময় সেই নথিগুলি ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ বলে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নথি জমা দেওয়ার প্রমাণ ভোটারদের হাতে না থাকায় তাঁরা পুরোপুরি প্রশাসনিক গাফিলতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এর ফলে নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা, যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই যুক্ত, তাঁদের অনেককেই অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। অথচ তাঁরা নিজেরাই বা উত্তরাধিকারের মাধ্যমে পুরনো তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করা। এতে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি বাড়ছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও চাপের মুখে পড়ছেন।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পুরনো নথি স্ক্যান ও অনুবাদের ক্ষেত্রেও গুরুতর ভুলের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম, বয়স, লিঙ্গ বা অভিভাবকের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ত্রুটির কারণে বহু প্রকৃত ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই সমস্যার সমাধান করবে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করবে।





