শিলিগুড়ি, ৬ নভেম্বরঃ বাস টার্মিনালকে কি মাদক পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল? গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শিলিগুড়ির পিসি মিত্তল বাস টার্মিনালে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের তিন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে প্রাথমিক অনুমান। বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় উত্তরবঙ্গের মাদক পাচার চক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক পাচারের গোপন খবর পাওয়ার পরই তৎপর হয়ে ওঠে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ভক্তিনগর থানার পুলিশ। স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে পিসি মিত্তল বাস টার্মিনালে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে সেখানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেই অভিযানেই উদ্ধার হয় প্রায় ২ কেজি ব্রাউন সুগার। মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের মধ্যে দু’জন মালদা জেলার বাসিন্দা। অপরজনের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরে। ভিন্জেলার বাসিন্দাদের শিলিগুড়ির বাস টার্মিনাল থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় পাচারের সম্ভাব্য রুট নিয়ে তদন্তকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ এবং তার সম্ভাব্য বাজারমূল্যও যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল? শিলিগুড়ি হয়ে কি তা অন্য কোনও জেলায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল? নাকি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের ছক কষা হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। এই কারবারের পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তারও খোঁজ চলছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে শিলিগুড়ির ভৌগোলিক গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। সড়ক ও রেলপথে একাধিক রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে এই শহরকে ঘিরে পাচারকারীদের তৎপরতার অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পিসি মিত্তল বাস টার্মিনালের এই উদ্ধার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তিন অভিযুক্তকে জেরা করে মাদক কারবারের মূল মাথাদের কাছে পৌঁছনোই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস এবং পাচারের গন্তব্যের হদিস মিললে এই চক্রের আরও বড় নেটওয়ার্ক সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।





