মাথাভাঙা, ৬ নভেম্বরঃ সকালবেলার নির্জনতা ভেঙে আচমকাই বাঁশ বাগানের সামনে ভিড় জমতে শুরু করল গ্রামবাসীদের। দেখা গেল, এক ব্যক্তি উঠে পড়েছেন বাঁশ বাগানের একেবারে মগডালে। তাঁকে নামানোর চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি কেউ। শেষ পর্যন্ত খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে উদ্ধারকাজ। অবশেষে মাথাভাঙা থানার পুলিশ ও দমকলকর্মীদের তৎপরতায় নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয় ওই ব্যক্তিকে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় মাথাভাঙার শিকারপুর বড়দোলা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম ফুলেশ্বর বর্মন। পরিবার সূত্রে খবর, আগের দিন তাঁর বাড়িতে কাকার বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ছিল। সেই উপলক্ষে দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়িতে কাজকর্ম করেন তিনি। রাতে অনেক দেরিতে ঘুমোতে যান। পরদিন সকালে আচমকাই বাড়ির পিছনে থাকা বাঁশ বাগানে উঠে পড়েন ফুলেশ্বর। পরে সেখান থেকে নেমে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অন্য একটি বাঁশ বাগানের মগডালে উঠে যান তিনি।
বিষয়টি নজরে আসতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঁশের অনেকটা উঁচুতে উঠে পড়ায় তাঁকে কী ভাবে নিরাপদে নামানো হবে, তা নিয়ে তৈরি হয় উদ্বেগ। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও তাঁকে নামানো সম্ভব না হওয়ায় মাথাভাঙা থানার পুলিশ ও দমকল কেন্দ্রে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশকর্মী ও দমকলের কর্মীরা। শুরু হয় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত সকলের প্রচেষ্টায় বাঁশের মগডাল থেকে ফুলেশ্বরকে নিরাপদে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। এরপর শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাঁকে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধারের পর স্বস্তি ফেরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রামবাসীরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। তবে কী কারণে ফুলেশ্বর বর্মন এ ভাবে বাঁশ বাগানের মগডালে উঠে পড়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর এমন আচরণের নেপথ্যে কোনও শারীরিক বা মানসিক সমস্যা ছিল কি না, তা-ও জানা যায়নি। গোটা ঘটনাকে ঘিরে শিকারপুর বড়দোলা গ্রামে দিনভর চর্চা চলে।





