কোচবিহার, ৬ নভেম্বরঃ জন্মদিন মানেই কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠা। কিন্তু সেই চেনা উদ্যাপনের বাইরে গিয়ে জন্মদিনের আনন্দ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পথ বেছে নিলেন কোচবিহারের বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপা চক্রবর্তী। নিজের বিশেষ দিনটিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্যাপনের মধ্যে আটকে না রেখে হাসপাতালের রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েই দিনটি স্মরণীয় করে তুললেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগে জন্মদিনের উদ্যাপনে জুড়ল মানবিকতার এক অন্য মাত্রা।
শুক্রবার নিজের জন্মদিন উপলক্ষে কোচবিহারের মাতৃমা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ফল বিতরণ করেন দীপা চক্রবর্তী। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের হাতে ফল তুলে দেন তিনি। অসুস্থতার কারণে যাঁদের দিন কাটছে হাসপাতালের বিছানায়, তাঁদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানো এবং তাঁদের মনে পাশে থাকার ভরসা জোগানোই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
জন্মদিনের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনে সমাজের প্রান্তিক কিংবা অসহায় মানুষের কথা মনে রাখা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কাছে পরিচিত পরিসরের বাইরে থেকে আসা এমন ছোট্ট উদ্যোগও অনেক সময় মানসিক স্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। দীপা চক্রবর্তীর এই কর্মসূচি যেন সেই বার্তাই পৌঁছে দিল।
সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে জন্মদিন উদ্যাপনের এমন ভাবনা অবশ্য নতুন নয়। তবে ব্যক্তিগত আনন্দকে সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কারণ, উৎসবের আনন্দ তখনই আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার কিছুটা অংশ পৌঁছে যায় অন্যের কাছে।
নিজের জন্মদিনে হাসপাতালের রোগীদের হাতে ফল তুলে দিয়ে দীপা চক্রবর্তী বুঝিয়ে দিলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। আন্তরিক ইচ্ছা আর সামান্য উদ্যোগও কারও মুখে হাসি ফোটাতে পারে। জন্মদিনের কেক কিংবা উপহারের বাইরেও যে মানুষের ভালোবাসা অর্জনের পথ রয়েছে, তাঁর এই উদ্যোগে মিলল সেই বার্তাই।





