দিনহাটা, ১১ ডিসেম্বর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিনহাটার রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সংগঠনে থাকা এবং মন্ত্রী উদয়ন গুহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তাপস দাস। মন্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারনে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান তিনি। কয়েকবছর যেতে না যেতে তাপস দাস বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে এলেন। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে একপ্রকার ‘ঘর ওয়াপসি’-ই বলা হচ্ছে।
লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই তাপস দাস বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গজুড়ে তৃণমূল ও বিজেপির টানাপোড়েনের সময়ে তাঁর দলবদলকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক বছর কাটতেই ফের পুরনো দলে ফিরলেন তাপস। ফলে দিনহাটার রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিন দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দীপক ভট্টাচার্য-এর হাতে তাপস দাস দলীয় পতাকা তুলে নেন। যোগদান অনুষ্ঠানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দীপক ভট্টাচার্য বলেন, “যে কোনও প্রকৃত কর্মী ও নেতা নিজের মূল শিবিরে ফিরে আসবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাপস দাসের ফেরা প্রমাণ করে তৃণমূলই উত্তরবঙ্গের মানুষের একমাত্র আস্থার স্থল।’’
তাপস দাস নিজেও জানান, জনগণের স্বার্থে কাজ করতে হলে তৃণমূলই সঠিক প্ল্যাটফর্ম। বিজেপিতে থাকার সময় তাঁর মতামত বহু ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এই যোগদান নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, দলীয় স্তরে এই বিদায়কে “ক্ষতিকর” বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত নির্বাচনের মুখে সক্রিয় কর্মী-নেতাদের দলছাড়া হওয়া বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তাপস দাসের ঘরে ফেরা কেবল রাজনৈতিক বার্তাই নয়, দিনহাটার ভোটের সমীকরণেও নজরকাড়া পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই দাবি শাসকদলের।





