খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ ফেব্রুয়ারি: অন্যান্য বহু রোগের তুলনায় ডায়াবিটিসকে চিকিৎসকেরা একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে দেখছেন। কারণ এই এক রোগ থেকেই শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি বলে জানাচ্ছেন ইন্টারভেনশনাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোলেস্টেরল দুই ধরনের ভালো (এইচডিএল) ও খারাপ (এলডিএল)। খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে থাকলে তা ধমনীর গায়ে জমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই জমাট পদার্থ রক্তনালিকে সরু করে দেয় এবং স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে।
এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু হৃদ্পিণ্ডই নয়, হাত-পা ও মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে স্ট্রোক বা অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক অনেক সময় ‘নীরব’ভাবে ঘটে। অর্থাৎ বুকে তীব্র ব্যথা বা সাধারণ লক্ষণ সবসময় দেখা যায় না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে স্পষ্ট কোনও লক্ষণ বোঝা যায় না। এই কারণেই ডায়াবিটিস রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি ধূমপান ও অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার কথাও বলা হচ্ছে। সচেতনতা ও নিয়মিত চিকিৎসা-পর্যবেক্ষণই ডায়াবিটিসজনিত হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।





