খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৫ জানুয়ারিঃ এক সময় যে ঘরানার ওপর ভর করেই বলিউড বারবার দর্শককে হলে টেনেছে, সেই যুদ্ধ ও দেশপ্রেমভিত্তিক সিনেমা ২০২৫ সালে এসে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও জাতীয় আবেগের মতো শক্তিশালী বিষয় থাকা সত্ত্বেও গত বছরের বেশিরভাগ দেশপ্রেমমূলক ছবি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, সমালোচকদের কাছেও প্রশংসা কুড়োতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল তবে কি বলিউড দেশপ্রেমের গল্প বলা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে ‘না’। বরং আসন্ন ছবির তালিকা বলছে, নতুন ভাবনা ও বড় ক্যানভাসে এই ঘরানাকে ফিরিয়ে আনতেই আবার ঝাঁপাচ্ছেন নির্মাতারা।
বছরের শুরুতেই মুক্তি পেয়েছে শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত ‘ইক্কিস’। ১ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ পরম বীর চক্র প্রাপক, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ খেতরপালের জীবনের গল্প। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় মাত্র ২১ বছর বয়সে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। বড় বাজেটের যুদ্ধদৃশ্যের বদলে বাস্তবতা ও আবেগকে গুরুত্ব দিয়েই ছবিটি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। পাশাপাশি, এটিই কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রের শেষ ছবি হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দর্শকমহলে। ছবিতে অভিনয় করেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত এবং থিয়েটারে প্রথমবার দেখা গিয়েছে আগস্ত্য নন্দাকে।
এই মাসের শেষেই বড়পর্দায় আসছে বহু প্রতীক্ষিত ‘বর্ডার ২’। ১৯৯৭ সালের আইকনিক ছবি ‘বর্ডার’-এর এই আধ্যাত্মিক সিকুয়েল মুক্তি পাচ্ছে ২৩ জানুয়ারি। সানি দেওল, বরুণ ধাওয়ান, আহান শেঠি ও দিলজিৎ দোসাঞ্জের মতো তারকাদের নিয়ে তৈরি এই ছবি মূলত থিয়েটার-ভিত্তিক ‘ম্যাস’ অভিজ্ঞতার উপর জোর দিচ্ছে। ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে, নস্টালজিয়া, বড় স্কেল ও তারকাখচিত কাস্টই ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি।
দেশপ্রেমভিত্তিক ছবির সাম্প্রতিক ব্যর্থতা প্রসঙ্গে ট্রেড অ্যানালিস্ট রোহিত জৈস্বাল বলেন, “সমস্যা দেশপ্রেমে নয়, সমস্যাটা বাস্তবায়নে।” তাঁর মতে, এই ঘরানার ছবিতে বড় তারকা, আবেগ, গান ও স্কেলের সঠিক মিশ্রণ না থাকলে সাধারণ দর্শক হলে টান অনুভব করেন না। সেই কারণেই ‘কেসারি চ্যাপ্টার ২’ বড় সাফল্য না পেলেও সম্মানজনক ব্যবসা করে দেখিয়ে দিয়েছে সঠিক প্যাকেজিং থাকলে দেশপ্রেম এখনও কাজ করে।
এখন সকলের নজর ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তির লক্ষ্যে তৈরি ‘দ্য ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর দিকে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবিতে সালমান খানকে দেখা যাবে একেবারে ভিন্ন অবতারে। ভিএফএক্স বা ভারী অস্ত্রের বদলে বাস্তব হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাটই ছবির মূল আকর্ষণ। ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছবিই হতে পারে সালমান খানের বড় কামব্যাক।
শুধু বড়পর্দা নয়, দেশপ্রেম ও ইতিহাসের গল্পে ঝুঁকছে OTT প্ল্যাটফর্মও। Prime Video আনছে ‘The Revolutionaries’, যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়া তরুণ বিপ্লবীদের কাহিনি উঠে আসবে। অন্যদিকে SonyLiv-এর ‘Freedom at Midnight’ সিজন ২ ফিরছে দেশভাগ ও সেই সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের গভীর বিশ্লেষণ নিয়ে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও বলিউড দেশপ্রেমের গল্প বলা থেকে সরে আসেনি। প্রশ্ন একটাই এই নতুন প্রজন্মের ছবিগুলি কি পুরনো আবেগকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে পারবে? তার উত্তর দেবে সময় এবং আসন্ন মুক্তিগুলি।





