খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে গতবারের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির তরফ থেকেও ভোটকেন্দ্রের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার দাবি জোরদার হয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮ দফায় ভোট হয়েছিল এবং তখন মোট প্রায় ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এবারে তার থেকেও বেশি বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশন ও বিরোধী শিবিরের দাবি। কিন্তু এই অতিরিক্ত বাহিনী কীভাবে জোগাড় করা হবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় অমিত শাহের মন্ত্রক।
চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে কারণ একই সময়ে ভারতের পূর্ব সীমান্তেও নিরাপত্তা চাপ বাড়ছে। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ এবং মার্চে নেপালে নির্বাচন থাকায় ওই দুটি দেশের সঙ্গে সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি বজায় রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তে ভোটের সময় নিরাপত্তা সামলানোই এখন কেন্দ্রের কাছে বড় দায়িত্ব। এর পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। তাই বিএসএফ ও এসএসবি-র বাহিনী পূর্ণ শক্তিতেই সীমান্তে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বাংলার ভোটে প্রয়োজনীয় বাহিনী জোগাড় করতে রোটেশনাল ও দফাভিত্তিক পরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে। মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গকে ‘হাই ডিপ্লয়মেন্ট স্টেট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেশি, একাধিক জেলা ‘সেন্সিটিভ’ ও ‘ক্রিটিক্যাল’ তালিকাভুক্ত এবং ভোট-পরবর্তী সময়েও অশান্তির আশঙ্কা থাকে।
এই পরিস্থিতিতে ভোটের দফা ও সময়সূচি নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ভোটের দিন ছাড়াও ফল ঘোষণার পরের সময়কে সবচেয়ে সংবেদনশীল ধরা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভোটের পরেও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রেখে পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন শাহ-মন্ত্রকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





