খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জুলাইঃ প্রসব যন্ত্রণায় কাতর অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স মেলেনি। শেষ ভরসা হয়েছিল একটি অটো। কিন্তু হাসপাতাল আর পৌঁছনো হল না। পথেই একে একে চারটি প্রিম্যাচিউর সন্তানের জন্ম দিলেন বছর আঠাশের এক গৃহবধূ। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা চার নবজাতককেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের মণ্ডলা জেলায়।
মৃত চার শিশুর মা রজনী সিন্দ্রম প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মঙ্গলবার আচমকাই তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়। পরিবারের দাবি, সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। পরিস্থিতির চাপে তাঁকে অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা।
প্রথমে রজনীকে নিয়ে যাওয়া হয় ঘুটাস প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে রেফার করেন। কিন্তু সেই হাসপাতালের পথে যেতেই প্রসববেদনা তীব্র আকার নেয়। চলন্ত অটোর মধ্যেই পরপর চারটি সন্তানের জন্ম দেন রজনী।
হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা নবজাতকদের পরীক্ষা করে জানান, চার শিশুই মৃত অবস্থায় জন্মেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, শিশুদের জন্ম হয়েছিল প্রায় ৩০ সপ্তাহে। অপরিণত অবস্থায় জন্ম এবং পর্যাপ্ত শারীরিক বিকাশ না হওয়াই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।
রজনীর স্বামী ধনেশ সিন্দ্রমের অভিযোগ, সময়মতো অ্যাম্বুল্যান্স মিললে হয়তো পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। তাঁর কথায়, ‘‘অ্যাম্বুল্যান্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে অটোতে নিয়ে যেতে হয়েছিল। রাস্তাতেই সন্তান প্রসব হয়। চারটি শিশুকেই হারালাম।’’
বিছিয়া ব্লকের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অনুপকুমার ভারতীয় জানিয়েছেন, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই প্রসব সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি বলেন, রজনী প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং সদ্যোজাতদের শারীরিক বিকাশ সম্পূর্ণ হয়নি। তবে চিকিৎসকদের তৎপরতায় মায়ের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিল জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং গ্রামীণ এলাকায় সময়মতো অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাকে ঘিরে। কয়েক মিনিটের বিলম্ব যে কখনও কখনও চারটি নবজাতকের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, মণ্ডলার এই ঘটনা যেন সেই নির্মম বাস্তবকেই সামনে এনে দিল।





