খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ দিল্লি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নিল আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পুরনো কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচারের তদন্তে আই-প্যাকের কলকাতা অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালায়। এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয় বাংলায় ও দিল্লিতে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির এই তল্লাশিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আক্রমণ করেন। তিনি নিজে প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আই-প্যাকের অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। সেখান থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন,বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল এবং বাংলায় রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার সাহস তাদের নেই।
এরই প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লিতে পথে নামেন তৃণমূল সাংসদরা। কর্তব্য পথের এক নম্বর গেট, অর্থাৎ অমিত শাহের দফতরের সামনে ধর্নায় বসেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল-সহ একাধিক সাংসদ। প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। তবে ধর্না শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন হয়। ১৪৪ ধারা জারির কথা বলে সাংসদদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়। অভিযোগ, তৃণমূল সাংসদরা অনড় থাকায় পুলিশ বলপ্রয়োগ করে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর ভিডিওতে দেখা যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্রকে দিল্লি পুলিশ চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তোলে। শতাব্দী রায় ও প্রতিমা মণ্ডলকেও টেনে-হিঁচড়ে আটক করা হয়। সকলকে পরে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটক হওয়ার সময় মহুয়া মৈত্র বলেন, “লজ্জা! এভাবেই কি জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আচরণ করা হয়?” অন্যদিকে কীর্তি আজাদের অভিযোগ, বিজেপি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ভয় পেয়েই তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ফের পথে নামার ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলে এই ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।





