খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ জানুয়ারিঃ মহা সমারোহে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু কে জানত বাসর রাতই বদলে দেবে গোটা ছবিটা!বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী রইল স্থানীয় বাসিন্দারা। বিয়ের রাতেই ‘কনে বদল’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বর রায়হান কবীর। পালটা পণ চাওয়ার গুরুতর অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কনেপক্ষও। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে মামলা-মোকদ্দমা ও কারাবাস পর্যন্ত।
বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট চণ্ডীপুরের বাসিন্দা রায়হান কবীরের সঙ্গে ভাণ্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়েতে কোনও ত্রুটি ছিল না, প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিয়ের রাতেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। বরের অভিযোগ, বিয়ের সময় কনের মুখে অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় আসল চেহারা বোঝা যায়নি। বাসরের আগে নববধূ মুখ ধোওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন, যাঁর ছবি দেখিয়ে সম্বন্ধ করা হয়েছিল, এই কনে সেই ব্যক্তি নন।
রায়হান কবীর দাবি করেন, ঘটকের মাধ্যমে যে মেয়ের ছবি দেখানো হয়েছিল, বর্তমান নববধূ সেই ছবির মেয়ের সঙ্গে মিলছে না। অভিযোগ ওঠে, ইচ্ছাকৃতভাবে কনে বদল করা হয়েছে। এই ঘটনার পরদিন, ২ আগস্টই নববধূকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি বরের।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হকের পালটা অভিযোগ, বিয়ের পর পাত্রপক্ষ ১০ লক্ষ টাকা পণ দাবি করেছিল। সেই দাবি পূরণ না হওয়াতেই ‘কনে বদল’-এর মতো মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, পাত্রপক্ষ নিজেরাই মেয়েকে দেখে পছন্দ করে বিয়ে করেছে। এমনকি ঘটকও জানিয়েছেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ঘটনার জেরে ২৭ আগস্ট কনের বাবা প্রথমে মামলা করেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবীরও আদালতের দ্বারস্থ হন। এতদিন জামিনে থাকলেও গত সোমবার, ১৯ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে কবীরকে কারাবন্দি করা হয়েছে। উভয়পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। এখন পরবর্তী শুনানির দিকেই তাকিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ।





