কলকাতা, ১৩ অক্টোবরঃ হুমকি ফোন থেকে গাড়িতে হামলা, তার পর সরকারি দফতরে ঢুকে ভাঙচুর। পরপর এমন ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী। সোমবার জেলা পরিষদের অফিসে একদল দুষ্কৃতীর তাণ্ডবের অভিযোগ সামনে আসার পর বারাসত পুলিশ জেলার সুপারকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্ত এবং পুলিশি নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
নারায়ণের অভিযোগ, গত দু’তিন মাস ধরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। গত ৯ অক্টোবরও তাঁর উপর হামলা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই দিন মুখে মাস্ক পরা ৬-৭ জন তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়ে। জেলা পরিষদের অফিস চত্বরেই ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ।
এর পর সোমবার, ১২ অক্টোবর, ফের অশান্তির অভিযোগ। নারায়ণের দাবি, সে দিন ২০-২৫ জনের একটি দল জেলা পরিষদের অফিসে ঢুকে তাঁর ঘরে ভাঙচুর চালায়। আলমারিতে রাখা নথিপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। ভাঙচুরের পর ফোনে তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পরই পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আর্জি জানান নারায়ণ। একই সঙ্গে সরকারি দফতরে ভাঙচুর এবং সরকারি নথিপত্র তছনছের ঘটনায় তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নারায়ণের কথায়, “অফিসে সুস্থ পরিবেশ না থাকলে কর্মীরা কাজ করতে পারবে না। সোমবার ২০-২৫ জন ঢুকে তাণ্ডব চালানোয় অফিসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। অফিসের কেউই দুষ্কৃতীদের চেনে না।” তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের সম্পত্তি কোনও ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি নয়, তা সরকারি সম্পত্তি। তাই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই হামলা। নারায়ণ ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় কালীঘাটের শিবিরের ক্ষোভ থেকে হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।





