নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তারাতলার বন্দরের জমিতে নির্মীয়মাণ একটি চায়ের গুদামে বুধবার দুপুরে ভয়াবহ বিপর্যয়। তিনতলার ছাদের ঢালাই চলাকালীন আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোডাউনের একাংশ। মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম, কংক্রিটের চাঙড় আর ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান ভিতরে কাজ করা শ্রমিকেরা। রাত পর্যন্ত অন্তত ৭ থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করা গেলেও, ধ্বংসস্তূপের ভিতরে এখনও বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, ভিতরে কমপক্ষে ৩০ জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। কিছু সূত্রে মৃতের সংখ্যাও সামনে আসতে শুরু করেছে, যদিও প্রশাসনের তরফে সরকারি ভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল, কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পরে সেনাবাহিনীও। ধ্বংসস্তূপ কাটতে আনা হয় অত্যাধুনিক গ্যাসকাটার, ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি। মোতায়েন করা হয় একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। বিকেলের পর থেকে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে ভেসে আসা আর্তনাদ শুনে বাইরে দাঁড়িয়ে শ্রমিকদের নাম ধরে ডেকে তাঁদের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছিলেন উদ্ধারকারীরা।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অগ্নিমিত্রা পাল, বিধায়ক রাকেশ সিং এবং পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। ইন্দ্রনীল বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য আটকে পড়া প্রাণগুলোকে বাঁচানো। দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনা সবাই মিলে দ্রুত গতিতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।” একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে বেআইনিভাবে এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছিল। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, কাটমানির বিনিময়ে অভিজ্ঞতাহীন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছিল, এমনকি এই নির্মাণ নিয়ে আগে পোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও আপত্তি জানানো হয়েছিল।
এদিকে, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। সাহায্য ও তথ্যের জন্য চালু করা হয়েছে একাধিক নম্বর 1070, 8697981070, 033-22143526 এবং 033-22535185। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাতলার ধ্বংসস্তূপ ঘিরে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা আর একটাই প্রশ্ন, ভিতরে এখনও কত জন আটকে?





