খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকেই এবার কার্যত বুকে টেনে নিল ঢাকা এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে আসছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গোয়েন্দা মহলে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাবের প্রকাশ একাধিক ঘটনায় সামনে এসেছে। তার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে খবর ঢাকায় সক্রিয় হয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর একটি ‘সেল’।
সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের মৌন সম্মতি বা সবুজ সংকেতেই এই আইএসআই সেল ঢাকায় কার্যত ঘাঁটি গেড়েছে। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে বলে নজর করেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কয়েক মাস আগে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল শাহিদ শামসাদ মির্জার ঢাকা সফর এবং একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও জোরদার করে।
বাংলাদেশের এক গোয়েন্দা আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আইএসআই-এর ঢাকা সেলের লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার নয়। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা হলো জামাত-ই-ইসলামির মতো পাকপন্থী শক্তিকে সামনে এনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানো। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে নির্বাচন দীর্ঘদিন পিছিয়ে দিয়ে দেশে অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করাই বিকল্প ছক।”
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী আইএসআই-এর আসল নিশানা বাংলাদেশ নয়, বরং ভারত। অভিযোগ, ঢাকাকে ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্লিপার সেল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। সীমান্তে চাপ সৃষ্টি করে অনুপ্রবেশ সহজ করাই তাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অশান্তি ছড়ানোর ছক কষা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমনকী, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ছাত্রনেতা ওসমান হাদির রহস্যজনক মৃত্যুকেও নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না গোয়েন্দা মহল। সূত্রের দাবি, সেটিও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা যে ভারতের নিরাপত্তার উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, তা স্পষ্ট। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে।





