বারুইপুর, ৯ জুলাইঃ বারুইপুরে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনায় তদন্তভার তুলে দেওয়া হল রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-র হাতে। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে প্রভাসের মৃত্যুর পর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হয়েছে। তার পাশাপাশি নিয়ম মেনেই এবার এনকাউন্টারের ঘটনার পৃথক তদন্ত করবে সিআইডি।
পুলিশ সূত্রের খবর, যে জেলার পুলিশ এনকাউন্টারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকে, সেই জেলা পুলিশ নিজেরাই ওই ঘটনার তদন্ত করতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই বারুইপুর পুলিশ জেলার পরিবর্তে সিআইডির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চলেছিল, পুলিশের তরফে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়েছিল কি না এবং গোটা অভিযানের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাস মণ্ডলের শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি বুকের ডান দিকে এবং অন্যটি কোমরের উপরে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে কাঁটাপুকুর মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং গভীর রাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশের দাবি, গত রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত প্রায় পৌনে একটা নাগাদ ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময়ই আচমকা তদন্তকারী দলের এক সদস্যের কোমর থেকে সার্ভিস পিস্তল কেড়ে নিয়ে একটি গুলি চালায় প্রভাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অর্ঘ্য মণ্ডল পাল্টা গুলি চালান। সেই গুলিতেই প্রভাসের মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।
তবে এই ঘটনার প্রতিটি দিক এখন স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখবে সিআইডি। পাশাপাশি পুলিশি এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তও চলবে। বিচারবিভাগীয় তদন্ত, সিআইডি তদন্ত এবং বিভাগীয় অনুসন্ধান এই তিন স্তরের প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে ওই রাতের ঘটনার প্রকৃত ক্রম এবং পুলিশি পদক্ষেপ বিধিসম্মত ছিল কি না।





