কোচবিহার, ৯ ডিসেম্বরঃ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের আচরণকে কেন্দ্র করে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশকে সতর্ক করার পর মঙ্গলবার কোচবিহারের রাসমেলা মাঠের জনসভা থেকে তিনি সীমান্তবাসীদের উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানান, “প্রত্যেকটা এলাকায় জোট বাঁধুন। বিএসএফ কারও ওপর অত্যাচার করলে মেয়েরা সামনে দাঁড়াবে। দেখতে চাই মা, বোনেদের ক্ষমতা বড়, না বিজেপি পার্টির ক্ষমতা!”
বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তাঁকে ফেরাতে বাধ্য হয় বিএসএফ। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন,“ওরা ইন্ডিয়ার সিটিজেন, কাগজপত্রও ছিল। তবুও জোর করে বাংলার গর্ভবতী মহিলাকে ওখানে পাঠানো হয়েছে। তাঁর পরিবারের চারজন এখনও ওপরে আটকে।”
সোমবারই তিনি পুলিশকে প্রশ্ন করেছিলেন,“রাজ্য পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে বিএসএফ কীভাবে মানুষ তুলে নিয়ে যাচ্ছে?” সেইসঙ্গে নির্দেশও দেন,“প্রো-অ্যাক্টিভ হন। মারধর করতে বলছি না, কিন্তু নাকা চেকিং ঠিকমতো করুন। সীমান্ত দিয়ে প্রচুর লেনদেন চলছে।”
এদিন জনসভা থেকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, তৃণমূল কংগ্রেস থাকলে বাংলায় কোনও দিন ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হবে না। বলেন,“কাউকে তাড়াতে দেব না। তৃণমূল সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করছে এবং করে যাবে। আমরা বিজেপির কাছে মাথা নত করি না।”
ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করার জন্য বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন,“হিন্দুও আমার গলার মালা, রাজবংশী-সহ সব সংখ্যালঘুই আমার সমান। ধর্মের নামে রাজনীতি করে বিজেপি। ওদের প্ররোচনায় পা দেবেন না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, সোনালি বিবি ইস্যুতে আদালতের হস্তক্ষেপের পর সীমান্তে বিএসএফ–রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে।





