খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারিঃ আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বুধবার সিঙ্গুরের সরকারি সভা থেকে সেই ঘোষণায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চ থেকেই তিনি জানালেন, রাজ্যের তরফে মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল আমাদের কিছু বন্ধু প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। আমি ববিকে পাঠাই, অরূপকে পাঠাই।” ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স কোম্পানি ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে। এছাড়াও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে।
তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। দগ্ধ গোডাউন থেকে তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট ১৬টি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের খাতায় নিখোঁজের সংখ্যা ২৩ জন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। আপাতত ডিএনএ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে দেহাংশগুলির পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অভিযোগ, তাঁর গোডাউনে কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
রবিবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ আগুন লাগে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। এই বিলম্ব ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। জলাশয় বুজিয়ে কীভাবে গোডাউন তৈরি হল, কেন ফায়ার অডিট হয়নি এবং প্রশাসনিক নজরদারি কোথায় ছিল এই সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “এখানে মৃত্যু নয়, খুন হয়েছে। গরিব মানুষের মৃত্যুর দাম ৫–১০ লক্ষ টাকায় নির্ধারণ করা হচ্ছে।” তিনি অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করে রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন।





