খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বর: ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তাল বাংলাদেশ। বুধবার সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায় কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ভাবে নিজেদেরই দলের এক যুবককে ভুলবশত পাথর ছুড়ে মারার ঘটনা সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যায় একদল কট্টরপন্থী। বিক্ষোভকারীরা জলের বোতল ও পাথর ছুড়ে হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় উত্তেজিত জনতা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হয়।
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দিকে পাথর ছোড়ার সময় এক কট্টরপন্থী ভুল করে নিজের দলেরই এক যুবকের দিকে পাথর ছুড়ে মারে। গুরুতর আঘাতে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই যুবক। মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ালেও বাকি বিক্ষোভকারীরা তাঁকে তুলে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। গোটা ঘটনাটি মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রামের রাস্তায় সেই সময় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া’ স্লোগান ওঠে এবং কট্টরপন্থীরা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে, তারা নাকি ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে ঢাকায় আরও উসকানিমূলক মন্তব্য সামনে এসেছে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম দাবি করেন, “হাদির খুনিদের যতক্ষণ পর্যন্ত না ভারত ফিরিয়ে দেবে, ততক্ষণ বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন বন্ধ থাকবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঢাকা, রাজশাহী-সহ বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে আওয়ামি লীগের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শাহবাগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিক্ষোভ চলছে। একই সঙ্গে ‘প্রথম আলো’-র অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠছে তীব্র ভারত-বিরোধী স্লোগান, ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন ভেঙে দাও’। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা উপমহাদেশের।





