কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর: শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি অনুষ্ঠান ঘিরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পর রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা দিয়েছে। মাঠের ব্যারিকেড ভেঙে উন্মত্ত জনতা ঢুকে পড়ে, স্লোগান দিতে দিতে হাজির ছিলেন একদল ব্যক্তি হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে। ঘটনা মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সরাসরি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন, বাংলার বিরোধী বিজেপি বাংলাকে বদনাম করতে কোনো সীমা ছাড়াচ্ছে।
শনিবার নির্ধারিত সময়েই যুবভারতী স্টেডিয়ামে পৌঁছান লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে মাঠে ঢোকেন লুইস সুয়ারেজ এবং রডরিগো ডি’পল। কিন্তু আয়োজক ও অন্যান্য অতিথিদের ভিড়ে কার্যত ঢেকে যান মেসি। গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা তারকাকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। এই হতাশা থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি দ্রুত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। মেসিকে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত মাঠ ছাড়তে হয়।
মেসির মাঠ ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে। মাঠের ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েন উন্মত্ত জনতা। গ্যালারির সিট ভেঙে ছোড়াছুড়ি, প্লেয়ারদের টানেল ও ক্যানোপি ভাঙচুরের দৃশ্যও ধরা পড়ে। একদল ব্যক্তি হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মাঠে ঢুকতে দেখা যায় এবং জয় শ্রীরাম স্লোগানও শোনা যায়।
এই ঘটনার পর কুণাল ঘোষ ফেসবুকে লিখেছেন, “আজ আমরা দেখেছি বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা মাঠে ঢুকে উসকানি দিতে ও অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। তারা গেরুয়া পতাকা বহন করছিল এবং স্লোগান দিচ্ছিল। দর্শকদের ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে এরা বিশৃঙ্খলা করছিল। শকুনের রাজনীতি করেছে। বাংলার বিরোধী বিজেপি বাংলাকে বদনাম করতে যেকোনও সীমা ছাড়াতে পারে। পুলিশের উচিত এই ধরনের অসামাজিক তৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা।”
উল্লেখ্য, গোট কনসার্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবারের বিশৃঙ্খলার জন্য দর্শকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে যারা মাঠে নেমে ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসন ও পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।





