কলকাতা, ৪ জুলাইঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিধানসভায় বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর উপস্থিতি এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও নেননি।
শনিবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে রাজ্য সভাপতি-সহ তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা। অভিযোগ করেন, মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পর তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিযোগেই তিনি ‘বেদনাহত’ হয়ে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি হিসেবেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
ইস্তফার পর দুপুরেই বিধানসভায় পৌঁছন চন্দ্রিমা। সেখানে বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বিধায়ক তাঁকে স্বাগত জানান এবং পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘কালের যাত্রায় সবাইকেই পা মেলাতে হয়।’’ যদিও বিদ্রোহী তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, বিধানসভার কিছু নথি জমা দিতেই তিনি এসেছিলেন। সরকারপক্ষের ঘরে নয়, বিরোধী শিবিরের কক্ষেই বসেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে এই ঘটনাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মমতাপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যদি কেউ বিশ্বাসঘাতক শিবিরে নাম লেখাতে চান, তা হলে বলার কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন চন্দ্রিমা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তখন অভিমান হয়নি, এখন কেন?’’
চন্দ্রিমার ইস্তফা এবং তার পরপরই বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক তৃণমূলের অন্দরের বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক অবস্থান নেন, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।





