কলকাতা, ৪ জুলাইঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে দলের নেতৃত্বে ফের বড় রদবদল। রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংগঠনের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় থেকে ফেসবুক লাইভে তিনি ঘোষণা করেন, আপাতত তিনিই রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সংগঠনের কাজ পরিচালনায় সাহায্য করতে দলের নতুন দুই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষের নামও ঘোষণা করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কে ছেড়ে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেতা চাই না, সাধারণ কর্মী চাই। দলের রাজ্য সংগঠন এখন আমি নিজেই চালাব। আপাতত আমার অন্য কাজ নেই, সারাদিন দলকেই সময় দেব।’’ তিনি আরও জানান, সংগঠনের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ তাঁকে সহযোগিতা করবেন।
এই ঘোষণার আগে শনিবার সকালে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রাজ্য সভানেত্রী-সহ তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর অভিযোগ, মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পর তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় ‘বেদনাহত’ হয়েই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। পরে বিধানসভায় গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার মেট্রোপলিটনের দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবির কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পরই চন্দ্রিমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
পরপর সাংগঠনিক রদবদল এবং চন্দ্রিমার পদত্যাগের জেরে তৈরি হওয়া সংকটের মুখে নিজেই নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দুই সাধারণ সম্পাদকের নিয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।





