কলকাতা, ৪ জুলাইঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পরাজয় মানতে অস্বীকার করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হয়নি এবং তিনি রাজনৈতিকভাবে পরাজিত নন। সেই অবস্থানের জেরে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা জানাতে রাজভবনেও যাননি। তবে নির্বাচনের প্রায় দু’মাস পর শনিবার তাঁর বক্তব্যে এল তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন। ফেসবুক লাইভে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মানুষের স্বার্থে কাজ করলে তাঁর সরকারকে সহযোগিতা করবেন।
শনিবার কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় থেকে ফেসবুক লাইভে মূলত তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলের ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বক্তব্যেই তিনি বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে বলেন, রাজ্যের মানুষের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে যে কোনও ইতিবাচক উদ্যোগকে সমর্থন করবেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে একাধিক সাংগঠনিক সংকট সামনে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে দলের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন, একাংশের বিদ্রোহ এবং দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সংঘাত শাসকদলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। শনিবারই রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পরে দলের রাজ্য সংগঠনের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও তিনি একইসঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে সরকারের কাজের উপর নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
দু’মাস আগে নির্বাচনের ফল নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তার তুলনায় শনিবারের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বদল ধরা পড়েছে। ফলে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





