দিল্লি, ২৭ জুলাইঃ দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে বিক্ষোভ দমনে আদৌ কি পেলেট গান ব্যবহার হয়েছিল? এই প্রশ্নেই নতুন করে চাপে কেন্দ্রীয় বাহিনী। গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্কের আবহে এবার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ-এর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)। সংঘর্ষের দিন কী ধরনের শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এতদিন দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়েছিল, পরিস্থিতি সামলাতে শুধুমাত্র লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। পেলেট বা ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে আহত আন্দোলনকারীদের বক্তব্য সামনে আসার পর।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে আহত আন্দোলনকারী সাহিল লোচাবকে পাশে বসিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর শরীরে ছররা গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখান। রাহুলের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা হাতে মিছিল করা যুবকদের লক্ষ্য করেই পেলেট ছোড়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই হামলায় সাহিলের চোখের দৃষ্টিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহত এক আন্দোলনকারীর বর্ণনায় উঠে এসেছে ঘটনার ভয়াবহতা। তাঁর দাবি, এক পুলিশকর্মীকে বন্দুক তাক করতে দেখেই তিনি পিছন ফিরে দৌড় দেন। ঠিক সেই সময় পিঠ ও কনুইয়ে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। তাঁর কথায়, “যদি ঘুরে না দাঁড়াতাম, তা হলে গুলি মুখেই লাগত।”
অন্যদিকে সিআরপিএফ সূত্রের দাবি, ওই সংঘর্ষে আরএএফ-এর ৪৭ জনেরও বেশি জওয়ান আহত হয়েছেন, কয়েক জনের আঘাত ছিল গুরুতর। বাহিনীর নিয়ম মেনেই গোটা অভিযানের পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণত জলকামান, কাঁদানে গ্যাস বা লাঠিচার্জে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তবেই পেলেট বন্দুক ব্যবহারের বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তদন্ত শেষেই স্পষ্ট হবে। এখন নজর সিআরপিএফ-এর চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই।





