লখনউ, ১ অক্টোবরঃ রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। সমাজবাদী পার্টির দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শীর্ষকর্তা ধনরাজ পরিমল নাথওয়ানির নাম ঘোষণা করলেন অখিলেশ যাদব। দলের প্রবীণ নেতা রামগোপাল যাদবের সঙ্গে বুধবারই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ধনরাজ। তাঁর প্রার্থিতা সামনে আসতেই উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নাথওয়ানি পরিবার এবং রিলায়েন্সের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক।
ধনরাজের বাবা পরিমল নাথওয়ানি দীর্ঘদিন রিলায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যসভার সাংসদ। চলতি বছরই বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএর সমর্থনে তিনি ফের রাজ্যসভায় গিয়েছেন। সেই পরিবারেরই ছেলে এ বার সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী। ফলে নাথওয়ানি পরিবারের রাজনৈতিক যাত্রায় একই সঙ্গে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের উপস্থিতি নতুন করে নজর কেড়েছে।
রাজনীতিতে ধনরাজ অবশ্য একেবারে অপরিচিত নন, তবে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে এটাই তাঁর প্রথম বড় পদক্ষেপ। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে জামনগর-সহ সংস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। গুজরাটে রিলায়েন্স জিও-র ব্যবসা এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো ও কর্পোরেট প্রকল্পের সঙ্গেও তাঁর কাজের যোগ রয়েছে।
কর্পোরেট পরিচয়ের পাশাপাশি ক্রিকেট প্রশাসনেও ধনরাজের প্রভাব রয়েছে। তিনি গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। ২০২২ সালে অমিত শাহের পর ওই পদে দায়িত্ব নেন তিনি। ফলে ব্যবসা, ক্রিকেট প্রশাসন এবং এবার রাজনীতি তিন ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি সামনে এল।
আগামী ১৬ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের ১০টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন। একটি আসনে জিততে ৩৭টি প্রথম পছন্দের ভোট প্রয়োজন। বর্তমান বিধায়ক-সংখ্যার হিসাবে বিজেপি-সমর্থিত শিবির সাতটি আসনে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সমাজবাদী পার্টির হাতে রয়েছে দুইটি নিশ্চিত আসনের মতো সমর্থন। তবে দশম আসনকে ঘিরেই শুরু হয়েছে অঙ্কের খেলা।
এই পরিস্থিতিতে অখিলেশ তৃতীয় প্রার্থী দেবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। ক্রস ভোটিংয়ের অঙ্কও আলোচনায়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থীসংখ্যা এবং বিধায়কদের ভোটের উপর।
ফলে রাজ্যসভা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশে এখন শুধু সংখ্যার অঙ্ক নয়, প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ও বড় প্রশ্ন। ধনরাজ নাথওয়ানির প্রার্থিতা সেই আলোচনাকেই আরও জোরালো করেছে।





