গুজরাট, ১ অক্টোবরঃ একসময় দল ছেড়েছিলেন, এবার সেই কংগ্রেসেই ফেরার পথে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শংকরসিন বাঘেলা। প্রায় এক দশক পর পুরনো দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। গুজরাট কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বও তাঁর প্রত্যাবর্তনে সম্মতি দিয়েছে বলে খবর। এখন অপেক্ষা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের।
গুজরাটের রাজনীতিতে বাঘেলার নাম নতুন নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনসঙ্ঘ, বিজেপি, কংগ্রেস একাধিক দলের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে দল ছেড়ে রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি তৈরি করেন। ১৯৯৬ সালে সেই দলের সমর্থনেই মুখ্যমন্ত্রী হন বাঘেলা। সরকার টিকেছিল কংগ্রেসের সমর্থনে। পরে রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি কংগ্রেসে মিশে যায় এবং বাঘেলাও কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।
কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ফের ছেদ ২০১৭ সালে। সে বছর রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে দল ছাড়েন বাঘেলা। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের বেশ কয়েক জন বিধায়কও দলত্যাগ করেন। ওই সময় গুজরাটে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসের সংগঠনে তার প্রভাব পড়েছিল। পরে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি, এনসিপিতে যোগ বিভিন্ন পর্ব পেরিয়ে আবার কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ বার বাঘেলার নিজের বক্তব্যও সেই জল্পনাকে জোর দিয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, দল তাঁকে ভবিষ্যতে প্রচারে ব্যবহার করার কথাও ভাবছে। বিশেষ করে আসন্ন গান্ধীনগর পুরনিগম নির্বাচন এবং পরবর্তী গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছে রাজ্য কংগ্রেস।
তবে বাঘেলার প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিজেপির প্রতিক্রিয়াও এসেছে। বিজেপির বক্তব্য, ৮৬ বছর বয়সি এই নেতার আগের মতো রাজনৈতিক প্রভাব আর নেই। ফলে তাঁর কংগ্রেসে ফেরায় সংগঠনের সমীকরণ কতটা বদলাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে গুজরাটে কংগ্রেসের ঘর গোছানোর চেষ্টায় বাঘেলার প্রত্যাবর্তন নতুন একটি অধ্যায় খুলতে পারে। তবে এখনই তাঁকে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক নেতা বলা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সংকেত এবং আনুষ্ঠানিক যোগদানের পরই স্পষ্ট হবে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ ঘুরে বাঘেলার এই ‘ঘর ওয়াপসি’ শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণ তৈরি করে।





