নয়াদিল্লি, ৬ আগস্টঃ সংসদের চলতি অধিবেশনে কেন্দ্রের সামনে এখন দুই গুরুত্বপূর্ণ বিল। একদিকে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ (এফসিআরএ), অন্যদিকে আসন পুনর্বিন্যাস বিল। দু’টিই পাশ করাতে চায় মোদি সরকার। কিন্তু একটি বিলে সমর্থন আদায়ের কৌশল অন্য বিলের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে এমন আশঙ্কায় এখন রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত কেন্দ্র।
সূত্রের খবর, এফসিআরএ সংশোধনী বিল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ করানো সরকারের পক্ষে খুব কঠিন নয়। কিন্তু এই বিলকে ঘিরে বিজেপির একাধিক মিত্র ও আঞ্চলিক দলের আপত্তি রয়েছে। কেন্দ্রের আশঙ্কা, এই ইস্যুতে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলে পরে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় আসন পুনর্বিন্যাস বিল-এ দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। অতীতে এই বিল পাশ করানোর প্রচেষ্টা সফল হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের পর বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সমর্থন পেতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে-সহ একাধিক আঞ্চলিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তবে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এফসিআরএ সংশোধনী বিল। দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি দল, বিশেষ করে ডিএমকে, ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী), বিলের কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তুলেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিজেপি-শরিকদের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, বিলের বর্তমান রূপে সমর্থন দিলে নিজ নিজ ভোটব্যাঙ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এনসিপি (শরদ)-র বক্তব্য, সব বিদেশি অনুদানদাতাকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত নয়। অন্যদিকে ডিএমকে জানিয়েছে, বর্তমান খসড়ায় বিলটিকে সমর্থন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই জট কাটানোর একটি সম্ভাব্য পথও খোলা রয়েছে। আঞ্চলিক দলগুলি এফসিআরএ বিলে বিরোধিতা করলেও পরে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে সমর্থন করতে পারে। সেই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে বলে সূত্রের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে এফসিআরএ বিল চলতি সপ্তাহে নয়, পরের সপ্তাহে সংসদে তোলার ভাবনা চলছে বলেও খবর। যদিও বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিলটির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। ফলে দুই গুরুত্বপূর্ণ বিলকে ঘিরে আগামী কয়েক দিনের সংসদীয় রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





