শিলিগুড়ি, ৯ জুলাইঃ নদীর বাঁধ দখল করে তৈরি হওয়া অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের ছবি দেখা গেল শিলিগুড়িতে। বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে পঞ্চানন নদীর বাঁধের উপর গড়ে ওঠা একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিল পুর কর্তৃপক্ষ। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে কয়েক ঘণ্টার অভিযানে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয় ওই নির্মাণ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীর বাঁধের উপর কোনও অনুমতি ছাড়াই ওই স্থাপনা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে ছিল। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সকালেই পুরকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুলডোজারের সাহায্যে নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রধাননগর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুরো অভিযানের সময় পুলিশ এবং পুরনিগমের আধিকারিকেরা সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালান। কোনও বাধা বা সংঘর্ষের খবর মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, নদীর বাঁধের উপর অবৈধ নির্মাণ শুধু সরকারি জমি দখলের প্রশ্ন নয়, ভবিষ্যতে বাঁধের স্থায়িত্ব এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেই কারণে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে তাঁরা প্রয়োজনীয় বলেই মনে করছেন। যদিও দলীয় কার্যালয় ভাঙার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুরনিগমের দাবি, সরকারি জমি, নদীর বাঁধ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও ধরনের অবৈধ দখল বরদাস্ত করা হবে না। আইন মেনেই সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করার অভিযান আগামী দিনেও চলবে। প্রশাসনের বক্তব্য, নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বার্থ এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখেই ধারাবাহিকভাবে এমন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।





