মালদা, ২৩ ডিসেম্বর: পারিবারিক বিবাদের জেরে ভয়াবহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এল মালদহ জেলার চাঁচল থানার মহিষামারি গ্রাম থেকে। গভীর রাতে নিজের বৌদিকে এলোপাথাড়ি হাসুয়ার কোপ মেরে খুন করার অভিযোগ উঠেছে দেওরের বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত দেওর জিয়ারুল হককে গ্রেফতার করেছে চাঁচল থানার পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মঙ্গলবার গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতার নাম মাজেদা বিবি (৪০)। গভীর রাতে তাঁর শোবার ঘর থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই মহিলার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জিয়ারুল হক দীর্ঘদিন ধরেই নিজের স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত। কয়েকদিন আগেও স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর অভিযুক্তের স্ত্রী প্রথমে বাপের বাড়ি যাওয়ার আগে দাদার বাড়িতে, অর্থাৎ মৃত মাজেদা বিবির বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে তিনি বাপের বাড়িতে চলে যান।
স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় বৌদির উপর ক্ষোভ জমে অভিযুক্তের। অভিযোগ, সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মানসিকতা থেকেই মঙ্গলবার গভীর রাতে সুযোগ বুঝে বৌদির শোবার ঘরে ঢোকে জিয়ারুল হক। এরপর কোনও কথাবার্তা ছাড়াই ধারালো হাসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। পরিবারের অন্য সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে যায়।
চিৎকার ও হৈচৈ শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে মাজেদা বিবিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।





