খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ৭ ডিসেম্বরঃ স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ ও পারিবারিক অশান্তি থেকেই ঘুমন্ত মেয়ের গলায় ব্লেড চালালেন এক ব্যক্তি এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে মুম্বইয়ের কান্দিভালিতে। গুরুতর আহত ১৪ বছরের কিশোরী ও তার মা চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত হনুমান্ত সোনাওয়ালেকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত হনুমান্ত দিনের বেশিরভাগ সময়ই মদ্যপ অবস্থায় থাকেন। কোনও রোজগার নেই, বাড়ির খরচে হাত লাগান না বলেও অভিযোগ পরিবারের। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায়ই ঝগড়া লেগেই থাকত। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহে নিত্যদিনই অশান্তি বাড়ছিল তাঁদের পরিবারে। পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে স্ত্রী রাজশ্রী সম্প্রতি ডিভোর্স পিটিশনও দাখিল করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আরও উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিলেন হনুমান্ত।
ঘটনার দিনও তীব্র বিতণ্ডা হয় দম্পতির মধ্যে। তখন পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিল তাঁদের ১৪ বছরের মেয়ে। ঝগড়ার কিছুক্ষণ পরেই আচমকা মেয়ের ঘরে ঢুকে তাঁর গলায় ব্লেড চালিয়ে দেন হনুমান্ত। কিশোরীর তীব্র চিৎকারে ছুটে যান মা রাজশ্রী। মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতেই তাঁর পেটেও ব্লেড চালায় অভিযুক্ত। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তিনি। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে হনুমান্তকে গ্রেপ্তার করে।
কান্দিভালির শতাব্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মা-মেয়েকে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, কিশোরীর গলায় পাঁচটি সেলাই লেগেছে। মা-ও গুরুতর জখম, তবে দু’জনেই এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি, অ্যালকোহলের অপব্যবহার ও মানসিক অস্থিরতার কারণে এই হামলা বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
স্থানীয়দের বক্তব্য, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল, কিন্তু এমন ভয়াবহ ঘটনার আশঙ্কা কেউ করেননি। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিশু নির্যাতন ও গার্হস্থ্য হিংসা নিয়ে আবারও উঠেছে নানান প্রশ্ন। ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।





