কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ ভোট শেষ। ফলও বেরিয়ে গিয়েছে। এ বার সামনে এল ভোটের খরচের খতিয়ান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব বলছে, সদ্যসমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে খরচ হয়েছে মোট ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই খরচ ২৮৬ কোটি অর্থাৎ পাঁচ রাজ্যের মোট ব্যয়ের প্রায় ৫৪ শতাংশ।
বিজেপির হিসাব অনুযায়ী, বাংলার পরে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে অসমে-৯৬.২৬ কোটি টাকা। কেরলে ৮২.৬৭ কোটি, তামিলনাড়ুতে ৫১.৫৬ কোটি এবং পুদুচেরিতে ১১.৮৯ কোটি টাকা। তবে এই অঙ্কে প্রার্থীদের নিজস্ব নির্বাচনী খরচ এবং রাজ্য বা জেলা সংগঠনের সমস্ত ব্যয় ধরা হয়নি।
বাংলার হিসাবটি আরও ভেঙে দেখলে ছবিটা স্পষ্ট। রাজ্যে দলের সামগ্রিক প্রচারে খরচ হয়েছে ২১৭.১৬ কোটি টাকা। প্রার্থীদের জন্য খরচ হয়েছে ৬৯.৮৩ কোটি, যার মধ্যে তাঁদের দেওয়া হয়েছে ৫৮.৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বুথ থেকে সভা, প্রচার থেকে প্রার্থী-ভোটযুদ্ধের বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রীয় দফতর থেকে বড় অঙ্কের অর্থ গিয়েছে বাংলায়।
শুধু ব্যয় নয়, নজর কাড়ছে আয়ের হিসাবও। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ রাজ্যের ভোটপর্বে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরে প্রায় ১,৪৯৪ কোটি টাকা এসেছে। নির্বাচনপর্ব শেষে দলের ব্যাঙ্কে থাকা অর্থ এবং হাতে নগদের মিলিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭,৬৮৯.০৬ কোটি টাকা।
এই বিপুল অর্থের উৎস নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, এত বড় নির্বাচনী ব্যয়ের পাশাপাশি দলের তহবিলে এত অর্থ এল কোথা থেকে, কারা অনুদান দিলেন তা আরও স্বচ্ছ ভাবে সামনে আসা প্রয়োজন। তবে বিরোধীদের এই প্রশ্ন রাজনৈতিক দাবি হিসাবেই দেখা হচ্ছে; জমা দেওয়া নির্বাচনী হিসাব মূলত দলের আয়-ব্যয়ের পরিমাণই তুলে ধরে।
একদিকে বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল, অন্য দিকে ভোটের ময়দানে বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ বিজেপির জমা দেওয়া হিসাব তাই ভোট-পরবর্তী রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক হয়ে উঠেছে।





