মাথাভাঙা, ৬ ডিসেম্বরঃ রাজনৈতিক উত্তেজনায় টগবগ করছে মাথাভাঙা ১ ব্লকের বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে বিজেপির হামলার অভিযোগে পুরো অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, আগামী ৯ ডিসেম্বর কোচবিহারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে সফল করতে শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ঠিক সেই সময় একই এলাকায় বিজেপির একটি কর্মসূচিও চলছিল।
তৃণমূলের দাবি, হঠাৎই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়। আচমকা ঘটে যাওয়া এই আক্রমণে মিছিলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েই যান একাধিক তৃণমূল কর্মী। আহতদের দ্রুত মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দলের অভিযোগ, “বিজেপির পায়ের তলায় এখন মাটি নেই, তাই আতঙ্কে এবং মরিয়া হয়ে রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়েছে তারা।”
যদিও বিজেপি এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূল নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং বিশৃঙ্খলাকে ঢাকতেই তাদের ওপর মিথ্যে অভিযোগ চাপাচ্ছে। তারা জানিয়েছে, তৃণমূলের ‘হামলা-অভিযোগ’ রাজনৈতিক নাটক ছাড়া কিছুই নয়।
এদিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিজেপি বিধায়ক বরেন বর্মন মাথাভাঙা থানায় পৌঁছন। তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে থানার সামনে জড়ো হন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস মদত’-এর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিধায়কের গাড়িকে ঘিরে ধরেন তৃণমূল কর্মীরা। অহরহ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে থানার চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ওই ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক বিবাদ আরও তীব্র হয়েছে। দু’ পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগেই এলাকা অশান্ত করতে চাইছে বিজেপি।” অন্যদিকে বিজেপির দাবি, “তৃণমূল নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই নাটকীয় অভিযোগ তুলছে।”
সব মিলিয়ে বৈরাগীরহাটে শনিবারের এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক রেষারেষি আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





