কলকাতা, ২৪ জুলাইঃ নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হচ্ছে। রাজধানীতে আন্দোলনের রেশ যখন রাজ্যেও পৌঁছতে শুরু করেছে, তখনই পাল্টা প্রচারে নামল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিল শাসক শিবির।
সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘‘যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। মোদি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে দোষীরা কোনওভাবেই আর রেহাই পাবে না।’’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সকলের থাকলেও ছাত্রদের জোর করে আন্দোলনে নামানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও সতর্কবার্তা দেন। তাঁর দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্র ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ করেছে। তবু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে থেকে অর্থের জোগান দিয়ে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা হতে পারে। এমন কোনও চেষ্টা পশ্চিমবঙ্গে হলে পুলিশ-প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন অবিজেপি-শাসিত রাজ্যে অতীতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাও তুলে ধরেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন অব্যাহত। শুক্রবার দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। কলকাতাতেও বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে ই-মেল পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এসএফআই-ও আন্দোলনে সামিল হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা।
রাজনৈতিক উত্তেজনার এই আবহে একদিকে আন্দোলনের অধিকার, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্ন দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।





