নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এ বার ধর্মীয় পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে জোরালো বার্তা। সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠন করে কালীঘাট, তারাপীঠ, জোড়াসাঁকো-সহ রাজ্যের একাধিক ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থানের পুনরুদ্ধারের কাজও হাতে নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, হেরিটেজ কমিশন পুনরুজ্জীবিত করা, মঠ-মন্দির সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, শক্তিপীঠ সার্কিটের আওতায় একটি প্রধান জেলাশহরকে কেন্দ্র করে একাধিক মন্দিরকে সংযুক্ত করে পর্যটনভিত্তিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই সার্কিটে ভ্রামরী দেবী, নন্দীকেশ্বরী, তারাপীঠ, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা এবং কঙ্কালীতলা মন্দিরকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর নামে পৃথক তীর্থযাত্রা সার্কিট গড়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে একদিকে যেমন ধর্মীয় পর্যটনের প্রসার ঘটবে, তেমনই সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাজেটে আরও জানানো হয়েছে, কালীঘাট, তারাপীঠ, জোড়াসাঁকো-সহ বিভিন্ন শক্তিপীঠ ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সংরক্ষণ, পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য হেরিটেজ কমিশনকে নতুন করে সক্রিয় করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ তার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক পরম্পরা এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। তাই সেই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও আরও প্রসারিত করা প্রয়োজন।
বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলার সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে সামনে আনতেই এই উদ্যোগ। তাঁর কথায়, “সংস্কৃতিকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আমরা সংস্কৃতির জাগরণ ঘটাব।” ফলে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শক্তিপীঠ সার্কিট, চৈতন্য সার্কিট এবং হেরিটেজ পুনরুদ্ধারের এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।





