খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারিঃ হাতে গোনা আর মাত্র দু’মাস। তারপরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। তার ঠিক আগেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক যোগদান। বুধবার কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দলে যোগ দিলেন অরুণা মার্ডি। তিনি বিজেপি সাংসদ ও জনজাতি নেতা খগেন মুর্মুর প্রথম স্ত্রী হওয়ায়, এই যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা, বিশেষ করে মালদহ জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে।
এদিন তৃণমূল ভবনে অরুণা মার্ডির হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। উপস্থিত নেতৃত্বের মতে, জনজাতি সমাজের সঙ্গে যুক্ত এক পরিচিত মুখের তৃণমূলে যোগদান নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দলে যোগ দেওয়ার পর অরুণা মার্ডি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ ও রাজনৈতিক দর্শন তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর কথায়, “তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার জন্যই আমি কাজ করতে চাই। প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই মানুষদের আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন।”
খগেন মুর্মুর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রসঙ্গে অরুণা বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে এবং ভিন্ন মত থাকা নতুন কিছু নয়। তিনি উল্লেখ করেন, খগেন মুর্মু আগে সিপিএম করতেন, পরে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর নিজের রাজনৈতিক পছন্দ আলাদা বলেই তিনি তৃণমূলে এসেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মনে হলে খগেন মুর্মুকেও তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মালদহ জেলার রাজনীতিতে খগেন মুর্মু দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। হাবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএমের টিকিটে টানা তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হন তিনি। তৃণমূলের দাবি, সেই নির্বাচনী জয়ে অরুণা মার্ডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফলে বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর তৃণমূলে যোগদান মালদহের রাজনৈতিক অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





