খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারিঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর দিল রাজ্য সরকার। চিকিৎসা খরচের বিল বা রিমবার্সমেন্ট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করতে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের অর্থ দপ্তর। অর্থ দপ্তরের মেডিকেল সেল থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজনে একাধিক প্রেসক্রিপশন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলি হচ্ছিল, তা এবার অনেকটাই সহজ করা হল।
বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS)-এর অধীনে ওপিডি সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন ক্যান্সার, হৃদরোগ-সহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি কোনও সহ-রোগ বা ‘কো-মরবিডিটি’র জন্য আলাদা প্রেসক্রিপশন থাকলে ওপিডি বিল বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। কারণ নিয়ম অনুযায়ী মূল রোগ ও সহ-রোগের সব ওষুধ একটিমাত্র প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।
বাস্তবে দেখা যেত, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে অন্য কোনও বিভাগের চিকিৎসকের কাছে রেফার করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আলাদা প্রেসক্রিপশন তৈরি হচ্ছিল। সেই কারণেই বহু সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী চিকিৎসার খরচ ফেরত পাচ্ছিলেন না। কর্মীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এবার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনা হল।
নতুন নির্দেশিকায় ‘মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি’ বা বহু-বিভাগীয় চিকিৎসা পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মূল চিকিৎসক যদি সহ-রোগের চিকিৎসার জন্য অন্য কোনও বিশেষজ্ঞ বা সুপার-স্পেশালিস্টের কাছে রেফার করেন, তবে সেই আলাদা প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতেও ওপিডি ক্লেম মিলবে।
তবে শর্ত রয়েছে মূল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে অবশ্যই অন্য চিকিৎসকের কাছে রেফার করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। বিল বা ক্লেম জমা দেওয়ার সময় মূল ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনও জমা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।





