কলকাতা, ৬ আগস্টঃ ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পে পিছিয়ে পড়েছে এই অভিযোগ তুলে নতুন করে শিল্পায়নের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্র শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে শিল্পপতিদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, “অমৃতকালের সুযোগ নিন, বাংলায় বিনিয়োগ করুন। এবার এগিয়ে যাবে বাংলা।”
বক্তব্যের শুরুতেই রাজ্যের গত প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এনে শুভেন্দুর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাঁর কথায়, “৫০ বছরে বাংলা শুধুই পিছিয়ে গিয়েছে। এবার কোনও রকম গুন্ডাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। আগামী এক-দু’বছরের মধ্যেই পরিস্থিতির বদল দেখতে পাবেন।”
শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। “বাংলায় শিল্পের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। কোনও ধরনের গুন্ডাগিরি বরদাস্ত করা হবে না,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্মেলনে একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। জানান, লাক্স কোজি ইতিমধ্যেই তাদের কারখানা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি আমুল পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনেকটাই এগিয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে সংস্থাটি মিষ্টি দই এবং আইসক্রিম উৎপাদনের কারখানা গড়ে তুলতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। এছাড়া শ্যাম স্টিল-এর নতুন বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় জমির ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়া হবে। শিল্পের সুবিধার্থে জমি নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
চা ও বস্ত্র শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও এ দিন উল্লেখ করেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বস্ত্র শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রের শিল্পপতিদেরও বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের শেষে শুভেন্দু জানান, বৃহস্পতিবারই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক রয়েছে। সেখানে শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর বার্তা, “শিল্পই হবে নতুন বাংলার উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।”





