খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারিঃ পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার হয় বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের দেহ। সেই খবর এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ ও অবরোধ। শিয়ালদহ–লালগোলা শাখার মহেশপুরে রেললাইনের উপর বসে পড়ে উত্তেজিত জনতা। লাইনের উপর বাঁশ ফেলে রেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একের পর এক লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।
একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করেন। রাস্তার উপর জ্বালানো হয় একের পর এক টায়ার। দাউদাউ করে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তাঁরা। এর জেরে সড়কপথেও যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তায় আটকে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী লরি ও ব্যক্তিগত গাড়ি। আতঙ্ক ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও প্রথমে তাতে বিশেষ সাড়া মেলেনি। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা বাধে, তৈরি হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
অশান্তির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি মৃত আলাউদ্দিন শেখের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, রাজ্যের বহু মুসলমান যুবক জীবিকার সন্ধানে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন। আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান করেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেন। ঘটনাকে ঘিরে এখনও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে বেলডাঙাবাসী।





