কলকাতা, ৭ ডিসেম্বরঃ টানা দু’দিন ধরে দুই ভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মহাসমারোহে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর থেকেই নতুন করে রাজনৈতিক তরঙ্গ তৈরি হয়েছে। তার ঠিক পরদিন রবিবার ভোর থেকে কলকাতার ব্রিগেডের প্রান্তরে শুরু হয়েছে ‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ফলে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক ডিগ্রি বেড়েছে।
হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। তিনি নিজেও নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ভোটের আগে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তাঁর এই পদক্ষেপ সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে রবিবার সকালে ব্রিগেডে ঢল নামে হাজার হাজার ভক্তের। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কার্তিক মহারাজ, সাধ্বী ঋতম্ভরা, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, বাবা রামদেব সহ একাধিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। পাশাপাশি যোগ দেন বিজেপি নেতারা শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য প্রমুখরা। এর ফলে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান ঘিরেও রাজনীতিকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা গতকাল যা দেখেছি, তাতে স্পষ্ট হিন্দু ভোট ভাগ করা এবং মুসলিম ভোট এক করার চক্রান্ত চলছে। এর জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বারবার সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তোল্লা দিয়েছেন।” তাঁর দাবি, “একুশের ভোটে হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করেনি, সামনে সেই চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।”
তবে গীতাপাঠের রাজনৈতিক রং নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই সুকান্ত মজুমদার তা অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, “গীতাপাঠের সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি হিন্দুদের আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। রাজনীতি রাজনীতির মতো চলবে, আর গীতা তো শাশ্বত।”
দু’দিনের দুটি ধর্মীয় কর্মসূচি রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। সংখ্যালঘু–হিন্দু ভোটের প্রশ্নে তৃণমূল ও বিজেপির তীব্র বাকযুদ্ধের মাঝেই আসন্ন নির্বাচনের লড়াই আরও বেশি উত্তেজক হয়ে উঠছে।





