কলকাতা, ৬ ডিসেম্বরঃ রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতেই বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হতে পারে এমন জোর জল্পনায় রাজনৈতিক মহলে এখন থেকেই বাড়ছে উত্তেজনা। নির্বাচনপূর্ব প্রস্তুতিতে সব দলই নিজেদের মতো করে ব্যস্ত হলেও, টিকিট বাছাইয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার স্রেফ জয়ের ভিত্তিতে নয়, প্রতিটি বিধায়কের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখে তবেই টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।
ইতিমধ্যেই ২১৯ জন অফিসিয়াল তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। ডোমকল ও তেহট্টের দুই বিধায়কের মৃত্যুতে সেই আসন দুটি বর্তমানে শূন্য। অন্যদিকে, মুকুল রায়ের পদ খারিজ হওয়ায় তৃণমূলের কার্যকরী বিধায়ক সংখ্যা এখন ২১৯-এ দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে অন্য দল থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া আরও পাঁচজন বিধায়ককেও একইভাবে রিভিউ তালিকায় রাখা হয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে বিধায়কদের গত পাঁচ বছরে এলাকায় কাজকর্ম, মানুষের পাশে থাকার মাত্রা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সক্রিয়তা সবকিছুর বিশদ মূল্যায়ন চলছে। এসআইআর পর্বে কোন বিধায়ক কতটা সক্রিয় ছিলেন, সেটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থাও জেলায় জেলায় গিয়ে গ্রাউন্ড সার্ভে করছে এবং প্রতিটি বিধায়কের জন্য পৃথক রিপোর্ট তৈরি করছে। পাশাপাশি সরকারের “উন্নয়নের পাঁচালি” রিপোর্টও প্রচারে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং সেখানে বিধায়কের অংশগ্রহণও চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি এমন নেতাদেরই চান যারা সৎ, পরিশ্রমী এবং মানুষের সঙ্গে ক্রমাগত যুক্ত থাকেন। ২৪ নভেম্বরের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “কোনও দাদা ধরে টিকিট পাওয়া যাবে না। শুধু পারফরম্যান্স।”
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, যেসব বিধায়কদের বিরুদ্ধে এলাকায় দুর্নীতি, দুর্ব্যবহার বা অযথা সম্পত্তি বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি গোপনে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা দলে থেকে বিভীষণের ভূমিকা নেওয়া নেতাদেরও বাদ দেওয়া হতে পারে। অভিনেতা-প্রার্থী এমন কয়েকজন বিধায়ক আছেন যাঁদের আচরণগত কারণে টিকিট কাটা যেতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।
তবে বয়সের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দল। উদাহরণ হিসেবে বজবজের বর্ষীয়ান বিধায়ক অশোক দেবের নাম তুলে ধরা হয়েছে সত্তরের বেশি বয়স হলেও তাঁর পরিশ্রম ও জনপ্রিয়তা তাঁকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।
এখন নজর রাজনৈতিক মহলের এসআইআর শেষ হলেই কি সত্যিই নির্বাচন ঘোষণা ? আর তার আগে তৃণমূলের কোন কোন বিধায়ক টিকিট পান, ওঠে আরও বড় প্রশ্ন।





