শিলিগুড়ি, ৯ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর আগে যান চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ শিলিগুড়িতে। ফুলেশ্বরী সংলগ্ন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেলগেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ও মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। শুক্রবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে রেলের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে গভীর রাতে রেলগেট বন্ধ করার অভিযোগ তোলেন তিনি। দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে রেলগেট পুনরায় চালু না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অশোক।
রেলগেট বন্ধের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অশোকের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, স্থানীয় বাসিন্দাদের নোটিশ দেওয়া, আপত্তি জানানোর জন্য ৩০ দিনের সময় দেওয়া এবং জনসাধারণের মতামত গ্রহণের মতো পদক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি রাজ্য সরকার, জেলাশাসক ও পুরনিগমের মতামত নেওয়াও প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্য।
বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়েও সরব হয়েছেন প্রাক্তন মেয়র। তাঁর মতে, রেলগেট বন্ধ করার আগে বিকল্প রাস্তা, সাবওয়ে, আন্ডারপাস কিংবা ফ্লাইওভারের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করা দরকার। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত। ফুলেশ্বরীর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
অশোক জানান, প্রায় ২০ বছর আগে এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান থাকাকালীন সংস্থার অর্থে ওই আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বিকল্প রাস্তা নির্মাণের জন্য রেলকে ৭৫ লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রেলগেট বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
সামনেই দুর্গাপুজো। সেই সময় যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। বিষয়টি জানিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার, কাটিহারের ডিআরএম এবং জেলাশাসককে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অশোক।
এখন দেখার, রেল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের জবাবে কী পদক্ষেপ করে। তার আগে ফুলেশ্বরীর রেলগেট পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ঘিরে শিলিগুড়ির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।





