কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ বিপর্যয় এলে শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর নয়, এ বার মাঠে নামবে আলাদা প্রশিক্ষিত বাহিনী। দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্যে আত্মপ্রকাশ করল ‘অর্জুন বাহিনী’। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘর থেকে নতুন এই বাহিনীর সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত ২০০ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু হচ্ছে বাহিনীর। তার মধ্যে কলকাতায় ১০০, পাহাড়ে ৫০ এবং সুন্দরবন এলাকায় ৫০ জনকে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম এলাকা কিংবা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে এই বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূলত অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান এবং অগ্নিবীরদের নিয়ে বাহিনী গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদেরও কাজে লাগানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাহিনীর সদস্যদের জন্য থাকছে নির্দিষ্ট সাম্মানিক। বাহিনী প্রধান, অর্থাৎ ‘বীর নায়ক’ মাসে ৪০ হাজার টাকা পাবেন। সদস্যদের, অর্থাৎ ‘বীর’দের মাসিক সাম্মানিক ২৫ হাজার টাকা। প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে সেই অর্থ বাড়বে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে গিয়ে কোনও সদস্যের গুরুতর আঘাত বা প্রাণহানি হলে ১০ লক্ষ টাকা এবং কর্মক্ষমতা হারালে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের ধাঁচে ধীরে ধীরে ‘অর্জুন বাহিনী’কে আধুনিক করে তোলা হবে। ভবিষ্যতে সদস্যসংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনই বাহিনীর পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তারাতলার ভবন বিপর্যয়ের পরেই রাজ্যে পৃথক দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী গড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সেই ভাবনা থেকেই ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরির সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু কলকাতা, পাহাড় বা সুন্দরবন নয়, দিঘা, মন্দারমণি, তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রেও প্রয়োজনে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
অর্থাৎ শহরের বহুতল থেকে পাহাড়ি দুর্গম এলাকা, উপকূল থেকে পর্যটনকেন্দ্র বিপর্যয়ের মানচিত্র যতই বদলাক, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রস্তুত থাকবে ‘অর্জুন’। আপাতত ২০০ জন দিয়ে শুরু, তবে ভবিষ্যতে এই বাহিনীর পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট।





