বারুইপুর, ১২ জুলাইঃ বারুইপুরের বহুচর্চিত ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্তে ফের বড় রদবদল। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর অধীনে চলা এই মামলার তদন্তভার এ বার দেওয়া হল ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু মুখোপাধ্যায়কে। এই নিয়ে তৃতীয় তদন্তকারী অফিসারের হাতে গেল মামলার দায়িত্ব। একই সঙ্গে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে বারুইপুর-কাণ্ডের তদন্ত আরও বিস্তৃত পরিসরে এগোচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর প্রথমে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন জেলা পুলিশের আধিকারিক দিগন্ত মণ্ডল। পরে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় জয়ন্ত পোদ্দারকে। এ বার মামলার জটিলতা, একাধিক ঘটনার পারস্পরিক যোগসূত্র এবং তদন্তে কোনও ফাঁক না রাখতেই ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রতিটি দিক নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে বলেও সূত্রের দাবি।
শনিবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরদিনই তদন্তকারী অফিসার বদলের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও পুলিশ সূত্রে দাবি, তদন্তকে আরও পেশাদার ও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
এদিকে, গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম শামিম আলি খান। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর ভূমিকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, একটি ফুটেজে রক্তাক্ত ইন্দ্রজিৎকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে শামিমকে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।
বারুইপুরের এই ঘটনার তদন্ত এখন একাধিক স্তরে চলছে। ধর্ষণ ও খুনের মূল মামলা সিটের হাতে থাকলেও, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ এবং পুলিশের অভিযানে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এনকাউন্টার-সংক্রান্ত তদন্ত করছে সিআইডি।
একটি ঘটনার জেরে পরপর একাধিক অপরাধ, গণরোষ, পুলিশের অভিযান এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সব মিলিয়ে বারুইপুর-কাণ্ড এখন রাজ্যের অন্যতম জটিল তদন্তে পরিণত হয়েছে। নতুন তদন্তকারী অফিসারের নেতৃত্বে সেই তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।





