কলকাতা, ২৬ ডিসেম্বরঃ দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা অপহরণ ও খুন মামলায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেফতারের পথে আরও এক ধাপ এগোল বিধাননগর কমিশনারেট। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা এই প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তদন্তে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেই কমিশনারেটের দাবি।
গত ২৮ অক্টোবর দত্তাবাদ এলাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, সল্টলেক এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে। সেখানেই তাঁকে খুন করা হয়। পরে নিউটাউনের যাত্রাগাছি সংলগ্ন বাগজোলা খালপাড়ের ঝোপ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। পরিবার দেহ শনাক্ত করে এবং পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগ তোলে।
তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম সামনে আনে। পুলিশের দাবি, অপহরণ থেকে খুন গোটা ঘটনার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে।
ঘটনার পর বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত বর্মন। ২৬ নভেম্বর নিম্ন আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। পরে বিধাননগর আদালতে হাজিরা দিয়ে আগাম জামিন কার্যকর করেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। রাজ্য সরকার নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে।
হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কড়া মন্তব্য করে বলেন, খুনের মতো গুরুতর মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ বিবেচনা না করেই আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর গত সোমবার হাইকোর্ট প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিন খারিজ করে দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি।
সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে গ্রেফতার এড়াতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। এখন নজর দেশের শীর্ষ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।





