দিল্লি, ২৭ জুলাইঃ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে অবশেষে সংসদে কড়া আইন আনার পথে কেন্দ্র। বিরোধীদের প্রবল হইহট্টগোল ও স্লোগানের মধ্যেই সোমবার লোকসভায় পেশ হল ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিলটি পেশ করলেও প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত থাকে সংসদের দুই কক্ষ।
সোমবার অধিবেশন শুরু হতেই সরকারের জবাবদিহির দাবিতে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সরকারের ভূমিকা এবং ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে স্লোগান-বিক্ষোভ শুরু হয়। হট্টগোলের জেরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতুবি রাখতে হয় লোকসভা ও রাজ্যসভার কাজকর্ম।
দুপুরে অধিবেশন শুরু হলে উত্তেজনার মধ্যেই সংশোধনী বিলটি পেশ করেন জিতেন্দ্র সিং। বিল উপস্থাপনের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় স্পিকার আবারও লোকসভার অধিবেশন দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করেন।
বিল পেশের পরই কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানায় কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারে ব্যর্থ সরকার এখন শুধুমাত্র জনমত সামাল দিতেই নতুন আইন আনার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা দূর না করে শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করলে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ বন্ধ হবে না।
সংসদের ভেতরের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সংসদ চত্বরেও। অধিবেশন মুলতুবি থাকাকালীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা যৌথ বিক্ষোভে সামিল হন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।
প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নতুন আইন এবং ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা দুই ইস্যুকেই সামনে রেখে সংসদের ভিতরে ও বাইরে কেন্দ্রের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিরোধী শিবির। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেও এই সংঘাত যে অব্যাহত থাকবে, তার ইঙ্গিত মিলেছে সোমবারের ঘটনাতেই।





