নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: এক দিকে দল ভাঙনের ধাক্কায় টালমাটাল তৃণমূল। ‘আসল’ তৃণমূল আর ‘কালীঘাটের’ তৃণমূলের মধ্যে প্রতীক, সংগঠন ও বৈধতা নিয়ে টানাপড়েন চরমে। সেই আবহেই বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহের জন্য বিদেশ যেতে চান তিনি। সেই আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে আবেদন করা হয়েছে।
আদালত সূত্রের খবর, অভিষেকের বিদেশযাত্রার উপর আগে থেকেই কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। একাধিক মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে থাকায় এবং তদন্ত চলায় আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারেন না তিনি। এ দিন সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করার আবেদনই করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
অভিষেকের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, বিদেশযাত্রার এই আবেদন নিছক রাজনৈতিক নয়, চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন থেকেই। কয়েক বছর আগে মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর চোট পান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। চোখের নীচে গুরুতর আঘাত লাগে। তার পর থেকে মাঝেমধ্যেই চোখের সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাঁকে। প্রথমে দেশে চিকিৎসা হলেও পরে বিদেশেও চিকিৎসা করাতে হয়। সেই চিকিৎসারই পরবর্তী ধাপ হিসেবে ফের বিদেশে যেতে চান অভিষেক।
কিন্তু এই আবেদন এমন এক সময়ে এল, যখন তৃণমূলের অন্দরে সঙ্কট চরমে। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করছে। বিধানসভায় সংখ্যার জোর দেখিয়ে তারা ‘আসল’ বিরোধী শিবিরের তকমাও কেড়ে নিতে পেরেছে। সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ অধিবেশন ডেকে তারা নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণাও করেছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক কারওই নাম নেই। দলের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে অরূপ রায়কে।
এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন রাজনৈতিক ভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, যে সময়ে দলের ভিতরেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেই সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে বিদেশে যেতে চাইতে হচ্ছে। আবার অন্য দিকে, একাধিক মামলায় জড়িয়ে থাকা এবং আদালতের রক্ষাকবচে থাকা এক নেতার বিদেশযাত্রার আবেদন ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
যদিও তৃণমূলের একাংশের মতে, বিষয়টিকে অকারণে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাজনিত বিষয়। কিন্তু সময়টাই এমন, যখন অভিষেকের প্রতিটি পদক্ষেপের রাজনৈতিক পাঠ খোঁজা হচ্ছে। আদালত তাঁর আর্জিতে সাড়া দেয় কি না, আপাতত সেদিকেই নজর। তবে দল ভাঙনের আবহে এই আবেদন যে নতুন জল্পনা উসকে দিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও সংশয় নেই।





