খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৭ জানুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের খোঁজ মিলতেই তৎপর হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে বিশেষজ্ঞদের একটি দল রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই নিপা সংক্রমণ রুখতে বিস্তারিত ও কড়া গাইডলাইন প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দলের তৈরি এই নির্দেশিকায় নিপায় আক্রান্ত, উপসর্গযুক্ত রোগী, তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য স্পষ্ট নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। গাইডলাইনে বলা হয়েছে, নিপায় আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর রক্ত, লালা, দেহরস কিংবা হাঁচি–কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে এলে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। রোগীর সঙ্গে বন্ধ বা সীমাবদ্ধ জায়গায় সময় কাটালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘হাই রিস্ক কন্ট্যাক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে দিনে দু’বার শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখার নির্দেশ রয়েছে। নিপা রোগীর জামা-কাপড় বা সরাসরি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তাঁদের প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নেবে স্বাস্থ্য ভবন।
রোগীর দেখাশোনায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই PPE কিট ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। উপসর্গহীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলকভাবে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি বাধ্যতামূলক। নিপার জন্য নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ না থাকায় পরীক্ষামূলকভাবে দুটি বিকল্প অ্যান্টিভাইরাল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিপা সন্দেহ হলে দ্রুত RTPCR পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠাতে হবে। একদিনে অন্তত দু’বার নেগেটিভ রিপোর্ট না এলে চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না। নিপা পজিটিভ রোগীদের পাঁচ দিন অন্তর লালারস, রক্ত ও ইউরিন পরীক্ষা করা হবে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও ৯০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দুই নার্সের অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং রাজ্যে নতুন করে কোনও নিপা সংক্রমণের খবর নেই। এই কড়া গাইডলাইন কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর প্রশাসনের।





