কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। তার আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ল হুগলিতে। সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠল। পাথর, ডিম এবং লোহার রড দিয়ে গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ কুণালের। ভেঙে যায় গাড়ির কাচ। ঘটনার পর সেখান থেকে সোজা ভবানী ভবনে পৌঁছন তিনি। কিন্তু সেখানেও তৈরি হল নতুন টানাপড়েন। গাড়ি নিয়ে ভবানী ভবনে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন বিধায়ক।
শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন কুণাল। উত্তরপাড়ার এলাকায় তাঁর গাড়ি ঘিরে প্রথমে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ। পরে ফের গাড়ি আটকে পাথর, ইট ও ডিম ছোড়া হয়। কুণালের দাবি, লোহার রড দিয়েও গাড়ির কাচ ভাঙার চেষ্টা করা হয়। হামলায় গাড়ির পিছনের কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।
কুণালের অভিযোগ, হামলাকারীদের মুখে বার বার শোনা যাচ্ছিল মমতার সভায় যাওয়া যাবে না। ঘটনার সময় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ সক্রিয় হলে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হত না। যদিও হামলার পিছনে কারা ছিলেন, তা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের তরফে বিজেপির দিকে আঙুল তোলা হয়েছে; বিজেপির এক বিধায়ক পাল্টা ঘটনাটিকে জনরোষ বলে দাবি করেছেন।
এর পরেই ভবানী ভবনের দিকে রওনা দেন কুণাল। ডিজিকে ইমেল করে নিজের গাড়ি নিয়ে সেখানে যাওয়ার কথা জানান বলে তাঁর দাবি। কিন্তু ভবানী ভবনের গেটে পৌঁছনোর পর গাড়ি ভিতরে নিতে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। কুণালের বক্তব্য, গাড়িতে ভাঙচুর হয়েছে, তাই সেটি পুলিশকে দেখানো প্রয়োজন। সেই নিয়েই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তর্কাতর্কি চলে।
শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে ভবানী ভবনের গেটের দিকে এগোতে গেলে সেখানেও তাঁকে আটকানো হয় বলে অভিযোগ। একদিকে মমতার সভার আগে রাস্তায় হামলার অভিযোগ, অন্য দিকে পুলিশের সদর দফতরের গেটেই বিধায়কের সঙ্গে পুলিশের টানাপড়েন দিনভর ঘটনাপ্রবাহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল হুগলি ও কলকাতার রাজনৈতিক মহলে।
শ্রীরামপুরের সভা নিয়ে অবশ্য আগে থেকেই আইনি টানাপড়েন ছিল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কোর্ট ময়দানে সভার অনুমতি মিলেছে, নির্ধারিত হয়েছে সময় ও জমায়েতের সীমাও। এবার সেই সভার পথে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।





