কলকাতা, ৪ জুলাইঃ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূলের প্রাক্তন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিল সিউড়ি আদালত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি-সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে সিউড়ি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারক (সিজেএম)। তবে আদালত এখনও অভিযোগের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ বা মতামত দেয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সদাইপুর থানার সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা কল্যাণ ঘোষ গত ১১ জুন সিউড়ি সিজেএম আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করেন। তাঁর অভিযোগ, চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। অভিযোগপত্রে প্রসেনজিৎ ঘোষ, তন্দ্রা ঘোষ ও উত্তম ঘোষের নাম উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজনের নামও রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সেই তালিকায় অনুব্রত মণ্ডল, বড়ঞাঁর প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি রাজা ঘোষের নাম রয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের পর আদালত সিউড়ি থানাকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রথমে ১৯ জুন রিপোর্ট পেশের সময়সীমা নির্ধারিত হলেও পুলিশ তা জমা দেয়নি। পরে ২ জুলাই ফের রিপোর্ট চাওয়া হয়। কিন্তু সেদিনও রিপোর্ট আদালতে জমা না পড়ায় বিচারক নতুন করে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারি আইনজীবী মোক্তাব হোসেন জানান, অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী কয়েকজন ব্যক্তি তৃণমূল নেতাদের নাম ব্যবহার করে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন। তবে অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল বা জীবনকৃষ্ণ সাহার নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি।
এখন আদালতের নজর তদন্ত রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারিত হবে।





